Skip to main content

ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ৮ পরামর্শ। ডা. তানজিনা হোসেন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ডায়াবেটিস রোগীদের জটিলতার ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত বেশি। তাই তাঁদের ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। করোনা ঠেকাতে এ সময় সবাইকে ঘরে থাকতে হচ্ছে। এ কারণে ডায়াবেটিস রোগীরা মূলত আট ধরনের সমস্যায় পড়ছেন। এগুলো হলো:
 অতিরিক্ত খাওয়া ও খাওয়ার সময়সূচি ঠিক না থাকা
 খাদ্যতালিকায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন
 হাঁটা বা ব্যায়ামে সীমাবদ্ধতা
 ওষুধ বা ইনসুলিনের সময়সূচি ঠিক রাখতে না পারা
 নিদ্রাহীনতা
 মানসিক চাপ, উদ্বেগ
 চিকিৎসকের কাছে রুটিন ফলোআপ করাতে না পারা
 কোনো জরুরি সমস্যায় স্বাস্থ্য সহায়তা পেতে সমস্যা

রক্তে শর্করার বিপাকক্রিয়ার জটিলতার কারণে ডায়াবেটিসের রোগীদের এমনিতেই রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকে। যেকোনো সংক্রমণই তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া তাঁদের অনেকেরই ডায়াবেটিসের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা ইত্যাদিও আছে। কাজেই ঘরে থাকার এ সময় রুটিনে ব্যত্যয় ঘটায় রক্তে শর্করার ওঠা-নামা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আটটি বিষয় মেনে চললে জটিলতা এড়ানো যায়।  
ডায়াবেটিস রোগীরা এ সময় পারতপক্ষে বাইরে যাবেন না। ঘরে-বাইরে কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্বের নিয়মকানুন মেনে চলবেন। বারবার হাত ধোবেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। এমন ঘরে অবস্থান করুন, যেখানে যথেষ্ট আলো-বাতাসের প্রবাহ রয়েছে।
খাবার রুটিনে ব্যত্যয় ঘটতে দেবেন না। আগে যে সময়ে যে খাবারটি খেতেন, এখনো সেটাই করতে চেষ্টা করুন। সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খান।
হাঁটা বা ব্যায়ামের জন্য পার্কে, রাস্তায়, জিমে যাওয়ার দরকার নেই। বাড়িতে হাঁটুন। জায়গা না থাকলে ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন। এক জায়গায় দাঁড়িয়ে জগিং করুন। 
আগের রুটিন এখনো মেনে চলুন। যেমন আগে যদি বিকেল ৫টায় ব্যায়াম, রাত ১০টায় ঘুম আর সকাল ৮টায় ওঠার অভ্যাস থেকে থাকে, তাহলে এখনো তা অব্যাহত রাখুন। তা না হলে রক্তে শর্করা ওঠানামা করবে। 
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কিছুতেই ওষুধ পরিবর্তন বা বন্ধ করবেন না। অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হয়ে দোকানের সংশ্লিষ্ট সব ওষুধ, ইনসুলিন, গ্লুকোমিটারের স্ট্রিপ, নিডল ইত্যাদি কিনে ফেলারও দরকার নেই। বাজারে এসবের সরবরাহ আছে এবং থাকবে। তবে কয়েক দিনের বা কয়েক সপ্তাহের ওষুধ কিনে রাখতে পারেন।
বাড়িতে সপ্তাহে দু-তিনবার বিভিন্ন সময় রক্তের শর্করার মাত্রা মাপুন। একটা খাতায় লিখে রাখুন চার্ট করে। সুগার বেড়ে বা কমে গেলে চিকিৎসককে ফোন করে পরামর্শ নিন।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা সিডিসি এবং ইউরোপের অ্যাসোসিয়েশন অব ডায়াবেটিস স্টাডি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে, মহামারি চলাকালে আপনার রুটিন ফলোআপে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। জরুরি অসুস্থতা ছাড়া হাসপাতাল, চিকিৎসকের চেম্বার কিংবা ক্লিনিকে যাবেন না। প্রয়োজনে টেলিমেডিসিনের সাহায্য নিন। খুব দরকার হলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দেখা করুন।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বাতায়ন, বঙ্গবন্ধু     শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল টেলিমেডিসিন সেবা চালু করেছে। নম্বরগুলো এখনই সংগ্রহ করে রাখুন।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ
source : ProthomAlo  

Comments

Popular posts from this blog

💻 কম্পিউটার বিষয়ক পরিপূর্ণ সংক্ষিপ্ত নোট

💻 কম্পিউটার বিষয়ক পরিপূর্ণ সংক্ষিপ্ত নোট 🟢 ১. কম্পিউটার কী? কম্পিউটার একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যা গাণিতিক, যৌক্তিক ও সিদ্ধান্তমূলক কাজ করতে পারে। এটি পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনার (Programs) মাধ্যমে ডেটা প্রসেস করে, সংরক্ষণ করে ও ফলাফল দেখায়। "Computer" শব্দটি এসেছে Latin শব্দ "Computare" থেকে, যার অর্থ "to calculate"। 🟢 কম্পিউটারের ইতিহাস (সুন্দরভাবে বিন্যাস করা নোট) আবাকাস (Abacus) পৃথিবীর প্রথম গণনা যন্ত্র। খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২৫০০ সালের দিকে ব্যাবিলনে ব্যবহৃত হতো। এটি ছিল হাতে চলানো গাণিতিক হিসাবের কাঠামো। চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage) ১৮৩৩ সালে "Analytical Engine" আবিষ্কার করেন। তাঁকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয় (Father of Modern Computer)। তাঁর ডিজাইনেই পরবর্তী কম্পিউটারের ধারণা আসে। হার্ভার্ড মার্ক-১ (Harvard Mark-1) আবিষ্কার: ১৯৪৪ সালে, IBM-এর সহযোগিতায়। এটি ছিল প্রথম ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল ডিজিটাল কম্পিউটার। দৈর্ঘ্য ছিল ৫১ ফুট, উচ্চতা ৮ ফুট। এটি ইনপুট-আউটপুটসহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করত। ENIAC (Electronic Numerical Integrator and Calculator...

হার্ডওয়্যার ও মেমোরি (সুন্দর ও সঠিকভাবে সাজানো নোট)

🟢 হার্ডওয়্যার ও মেমোরি (সুন্দর ও সঠিকভাবে সাজানো নোট) --- 💻 ১. হার্ডওয়্যার (Hardware) "Hard" মানে শক্ত এবং "ware" মানে বস্তু বা জিনিস। অর্থাৎ, কম্পিউটারের যে সব অংশ দেখা ও ছোঁয়া যায়, সেগুলোকে হার্ডওয়্যার বলা হয়। উদাহরণ: কিবোর্ড, মাউস, মনিটর, প্রিন্টার, হার্ডডিস্ক ইত্যাদি। 🔸 হার্ডওয়্যারকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়: 1. ইনপুট ডিভাইস (Input Devices) ➤ যা দিয়ে কম্পিউটারে ডেটা বা নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ➤ উদাহরণ: কিবোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, ডিজিটাল ক্যামেরা, পেনড্রাইভ, লাইট পেন, ওসিআর মেশিন, ওএমআর মেশিন। 2. সিস্টেম বা প্রসেসিং ইউনিট (System Unit) ➤ ডেটা প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণের কাজ করে। ➤ উদাহরণ: হার্ডডিস্ক (HDD), SSD, র‌্যাম, রম, প্রসেসর (CPU), মাদারবোর্ড, ডিসপ্লে কার্ড। 3. আউটপুট ডিভাইস (Output Devices ) ➤ প্রক্রিয়াজাত ডেটা দেখায় বা প্রিন্ট করে। ➤ উদাহরণ: মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকার, রেকর্ডার, প্রজেক্টর। --- 🟢 ২.  হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের পার্থক্য (পয়েন্ট আকারে ) 🔸 হার্ডওয়্যার : 1. কম্পিউটারের দৃশ্যমান ও স্পর্শযোগ্য অংশ। 2. বাহ্যিক গঠন তৈরি করে, যেমন কিবোর্ড...

কম্পিউটারের প্রজন্মভিত্তিক বিবর্তন (Generations of Computers)

 💻 কম্পিউটারের প্রজন্মভিত্তিক বিবর্তন (Generations of Computers) ১ম প্রজন্ম (১৯৪০–১৯৫৬) প্রযুক্তি: ভ্যাকুয়াম টিউব ইনপুট/আউটপুট: পাঞ্চ কার্ড ও কাগজে ছাপা আউটপুট মেমোরি: ম্যাগনেটিক ড্রাম/টেপ ভাষা: মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ বৈশিষ্ট্য: বড় আকৃতির, গরম হতো, ধীরগতি উদাহরণ: ENIAC, UNIVAC I, IBM 650 ২য় প্রজন্ম (১৯৫৬–১৯৬৩) প্রযুক্তি: ট্রানজিস্টর ইনপুট/আউটপুট: পাঞ্চ কার্ড ও প্রিন্টার মেমোরি: ম্যাগনেটিক কোর ভাষা: অ্যাসেম্বলি, FORTRAN, COBOL বৈশিষ্ট্য: আকারে ছোট, দ্রুতগতি, তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য উদাহরণ: IBM 1401, IBM 7090, UNIVAC 1107 ৩য় প্রজন্ম (১৯৬৪–১৯৭১) প্রযুক্তি: ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) ইনপুট/আউটপুট: মনিটর, কীবোর্ড মেমোরি: ম্যাগনেটিক ডিস্ক ভাষা: BASIC, Pascal, C বৈশিষ্ট্য: GUI (Graphical User Interface) এর সূচনা উদাহরণ: IBM 360, IBM 370, PDP-11 ৪র্থ প্রজন্ম (১৯৭১–বর্তমান) প্রযুক্তি: মাইক্রোপ্রসেসর (VLSI) ইনপুট/আউটপুট: মাউস, স্ক্যানার, মনিটর মেমোরি: RAM, ROM, হার্ডডিস্ক, SSD ভাষা: C++, Java, Python বৈশিষ্ট্য: ছোট আকৃতি, দ্রুত, সাশ্রয়ী উদাহরণ: IBM PC, Apple Macintosh ৫ম প্রজন্ম (বর্তমান ও ভব...